ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৬:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৬:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন
​কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ​ছবি: সংগৃহীত
আগামী ৫ বছরের মধ্যে কৃষকদের সেচকাজে ডিজেলচালিত পানি পাম্পের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্প দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম আধা ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রশ্ন ও সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন। 

তাজ উদ্দীন খান প্রশ্ন করেন, সেচকাজে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষকদের বিনা মূল্যে সোলার বিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘জ্বি, বর্তমান সরকারের এই পরিকল্পনা রয়েছে যেখানে যেখানে ডিজেল দ্বারা পানির পাম্প চালিত হয়, সেখানে সবগুলোকে পর্যায়ক্রমে ইনশাল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা সৌর বিদ্যুতে নিয়ে যাব।’ 

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণের সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ হতে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বিবেচনায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে নিম্নোক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এগুলোর হচ্ছে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ হতে ৫,৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ হতে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি যেমন: বায়ু বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার, অ্যাগ্রিভোলটেইক্স ইত্যাদি হতে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নবায়নযোগ্য উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যগুলির (সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, স্ট্যাকচার) ওপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২% (দুই শতাংশ) এর অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর হতে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করেছে। সর্বশেষ, গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ (আট) টাকা নির্ধারণ হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণপূর্বক যে সকল সম্মানিত গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী ৩ (তিন) বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ তারিখ পর্যন্ত, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রাপ্য হবেন। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে নিম্নরূপ নীতিমালা/ গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে।’ 

তারেক রহমান বলেন, ‘পিপিপি পদ্ধতিতে সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন ভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা, ২০২৫, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫, নেট মিটারিং গাইডলাইন, ২০২৫, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, ২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল এবং ‘‘অনশোর উইন্ড গাইডলাইন’’ এবং কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক গাইডলাইন।’ 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর এক সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সৌর বিদ্যুতের স্টোরেজের জন্য যে ব্যাটারিটি ব্যবহার হয় এখানে দুই ধরনের ব্যাটারি আছে। একটি হচ্ছে, লেড ব্যাটারি যেটাতে নরমাল ট্রেডিশনের ব্যাটারি, আরেকটা হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি যেটি পরিবেশবান্ধব। আমরা বর্তমান সরকার লিথিয়াম এনকারেজ করার চেষ্টা করছে। লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তৈরির ক্ষেত্রে যে সকল কলকারখানা স্থাপিত হবে সেটিকে সরকার সব রকমের সহযোগিতা প্রদান করবে।’ 

তিনি বলেন, ‘লিড ব্যাটারিটা এটাতে লিড ব্যাটারিটা এটাতে এসিডের ব্যবহার হয় যা পরিবেশে এর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। সেজন্য আমরা এটাকে ডিসকারেজ করতে চাইছি। ভবিষ্যতে এরকম চিন্তাভাবনা আমাদের থাকতে পারে যে সম্পূর্ণভাবে যেমন, এই যে রুফটপের ব্যাপারে যেটা বলা হয়েছে, সেই রুফটপের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে যে লিথিয়াম ব্যাটারি কম্পালসারি ওখানে ব্যবহার করতে হবে।’

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ